Friday || June 25, 2021 Online Tech News Portal
img

লাখো মানুষের জমায়েত কৌশলে থামিয়ে দিল র‌্যাব

Posted on : 2020-05-01 11:01:32

News Source : আমাদের সময়, আপডেট: ১ মে ২০২০ ০৭:১১

লাখো মানুষের জমায়েত কৌশলে থামিয়ে দিল র‌্যাব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ঘটনায় আলোচিত শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল এবার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে লাখো মানুষের জমায়েত কৌশলে থামিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনা মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার ঢেউপাশা এলাকার।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়িতে মৌলভীবাজারের বৃহৎ বরুণা মাদ্রাসার মোহাদ্দেস মাওলানা আবদুল মুমিতের (৭২) মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে সিলেটের মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতেই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তার দাফন হয় বুধবার ভোরে। যেহেতু তিনি একজন প্রখ্যাত আলেম, তাই তার অনেক ভক্ত, শুভাকাক্সক্ষী ও ছাত্র রয়েছে। এ মাদ্রাসায় ইতিপূর্বের হুজুরদের জানাজায় লাখো মানুষের জমায়েতের ইতিহাস রয়েছে। তাই আবদুল মুমিতের মৃত্যুর পর তার জানাজাকে ঘিরে লাখো মানুষের জমায়েত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

ঘটনা শুনে রাতেই মরহুমের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ঢেউপাশা গ্রামে র‌্যাব ফোর্স নিয়ে রওনা দেন আনোয়ার হোসেন শামীম। সারারাত অবস্থান করে স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ, মরহুমের পরিবারের সদস্য, পুলিশ, প্রশাসন ও র‌্যাব সবার সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে ভোরেই জানাজার ব্যবস্থা করা হয়।

ভোর ৪টা ১০ মিনিটে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় জানাজা আদায় করে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেন সীমিত সংখ্যক মানুষ।

বরুণা মাদ্রাসার শিক্ষক ওলিউর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৪৭ বছর ধরে শিক্ষকতা করেন। এক মধ্যে একযুগ ছিলেন বরুণা মাদ্রাসায়। তিনি ছাত্রদের পাশাপাশি হুজুরদের কাছেও খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে লাখ লাখ মানুষ তার জানাজায় অংশ নিত। র‌্যাবের ভূমিকায় এবং আমাদের সচেতনতায় মানুষ ভিড় করতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ঘটনা প্রচুর সমালোচিত হয়েছে। একই ঘটনা এখানেও ঘটতে পারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে তাই দিনের আগেই কীভাবে জানাজা শেষ করা যায়, তাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ এ হুজুরের যে পরিচিত বা ভক্ত রয়েছেন, তাতে দিন হলেই লাখো মানুষের সমাগম ঘটত। যেহেতু এখানে আবেগের একটা বিষয় ছিল, তাই কৌশলী হতে হয়েছে। সারারাত সবাইকে বুঝিয়ে রাজি করাতে আমরা সক্ষম হই। ফলে ভোরে জানাজা হয় সামাজিক দূরুত্ব মেনে এবং কোনো জমায়েত ছাড়াই।

জাতীয়