Saturday || June 12, 2021 Online Tech News Portal
img

দৈনিক ৫০ জন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন

Posted on : 2020-05-01 00:56:09

News Source : ইত্তেফাক, ০৯:০৫, ০১ মে, ২০২০

দৈনিক ৫০ জন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন

ছিল পিপিই-মাস্ক, মেনেছেন সব স্বাস্থ্য নির্দেশিকা—তবু ভাইরাসের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারছেন না করোনা যুদ্ধের ফ্রন্টফাইটাররা। অর্থাৎ যারা সরাসরি করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিচ্ছেন তাদের সুরক্ষা এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রীর কারণে সংক্রমণের শিকার রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য সেবাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল।

তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত ৮৮১ জন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে চিকিৎসক ৩৯২ জন, নার্স ১৯১ জন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মী রয়েছেন ২৯৮ জন। নিম্নমানের মাস্ক ও পিপিইর কারণেই ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা যেহারে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন—তা চিকিৎসাসেবায় অশনিসংকেত। এতে সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বড়ো ধরনের প্রভাব পড়বে। বিনা চিকিৎসায় অনেক রোগী মারা যাবে। তারা আরো বলেন, ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের মধ্যে যে পিপিই-মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে তা একেবারে নিম্নমানের। অনতিবিলম্বে এসব পিপিই-মাস্ক বাজার থেকে প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক মানের পিপিই-মাস্ক সরবরাহ করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বার, ক্লিনিক বন্ধ করে বাসায় অবস্থান করছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ডাক্তারদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেন, ডাক্তারের যেমন সুরক্ষা প্রয়োজন তেমনি নার্স, আয়া, সুইপারসহ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী সবারই একই সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সবারই একই মানের মাস্ক ও পিপিই দিতে হবে। আর পিপিই এক দিনের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে একটি কোম্পানির মাধ্যমে ১ লাখ পিপিই কেনা হয়। যার প্রতিটির মূল্য আড়াই হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে করোনার জন্য বরাদ্দকৃত ৪০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় হরিলুট চলছে। এরই মধ্যে নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহের চিত্র একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উঠে এসেছে। আরো কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান করছে। বিএমএর মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, করোনাযুদ্ধের সম্মুখ সারির যোদ্ধারা আশঙ্কাজনকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই হারে আক্রান্ত হতে থাকলে সামনে চিকিত্সাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সঠিক মানের পিপিই, এন-৯৫ বা এর সমমানের মাস্ক সরবরাহ করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে শু-কভারও দিতে হবে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের করোনায় আক্রান্ত এক চিকিত্সক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা পিপিই পরেই কিন্তু ডিউটি করেছি। কেন জানি মনে হচ্ছে সমস্যা হয়তো পিপিইতে ছিল। মিডফোর্ট হাসপাতালের এক জন চিকিত্সক বলেন, দেড় মাসের মাথায় চিকিত্সক আক্রান্তের এই হার জানান দিচ্ছে স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যথাযথ মাত্রায় সুরক্ষার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রায় ৩০ ভাগ কমিয়ে আনা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, কোনো যুদ্ধে সৈনিকদের যেমন অস্ত্র না দিলে মারা যায়, তেমনি করোনাযুদ্ধে ফ্রন্টফাইটার ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

৫ লাখ কিট সংগ্রহের উদ্যোগ: এদিকে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ৫ লাখ কিট সংগ্রহসহ ৮টি বিষয়ে ২২টি সুপারিশ প্রস্তুত করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এসব কিট বিদেশ থেকে আমদানির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ কিট মজুত আছে। তবে চাহিদার তুলনায় পরীক্ষা হচ্ছে না। পরীক্ষা যত বাড়ছে, আক্রান্তের সংখ্যাও তত বাড়ছে।

কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের বেশির ভাগ হাসপাতাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত ট্রায়াজ (কোভিড সন্দেহভাজন রোগী বাছাই প্রক্রিয়া) ব্যবস্থাপনা মেনে সন্দেহভাজন রোগীদের ভর্তি করছে। এই ব্যবস্থাপনা যেসব দেশে সুচারুভাবে মেনে চলা হচ্ছে সেইসব দেশে রোগী থেকে রোগীতে এবং রোগী থেকে চিকিত্সক ও চিকিত্সা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যে করোনা ছড়ানোর হার একেবারেই কম। ট্রায়াজ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে কোভিড-১৯ চিকিত্সার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত একটি বিশ্বজনীন রীতি (ইউনিভার্সেল প্রটোকল)। ট্রায়াজ শব্দের অর্থ আলাদা করা বা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা। করোনার ক্ষেত্রে কোনো রোগীকে লক্ষণ অনুযায়ী ভাগ করে চিকিত্সা দেওয়া হলে তাদের থেকে সংক্রমণের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে যায়।

পিপিই-তে পাঁচটি উপকরণ থাকতে হবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পর্যাপ্ত সুরক্ষার জন্য পিপিই-তে মোট পাঁচটি উপকরণ থাকতে হবে। এগুলো হলো— ১. গাউন, ২. গ্লাভস, ৩. মুখের আবরণ (ফেস শিল্ড), ৪. চোখ ঢাকার জন্য মুখের সঙ্গে লেগে থাকে এমন চশমা এবং ৫. মাস্ক। এক জন ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করে পিপিই পরতে এবং খুলতে হয়। কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অনেক সময় পিপিই দূষিত হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া পিপিই তৈরিতে এমন কাপড় ব্যবহার করতে হবে, যা কোনোভাবেই তরল শুষে নেবে না।

জাতীয়