Friday || June 25, 2021 Online Tech News Portal
img

করোনাকালে ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা

Posted on : 2020-04-24 13:47:55

News Source : বাংলাদেশ প্রতিদিন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০

করোনাকালে ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বিকালে তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের একটি দোতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে চারজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরা হলেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী কাজলের স্ত্রী ফাতেমা (৪০) এবং তাদের তিন সন্তান যথাক্রমে নুরা (১৬), হাওরিন (১১) ও প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিল (৭)। নুরা দশম ও হাওরিন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

করোনাকালে লকডাউনের মধ্যে এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতায় পুলিশ হতবাক। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শত শত লোক ওই বাড়ির সামনে ভিড় করে। পুলিশ পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে। শ্রীপুর থানা পুলিশ জানায়, কে বা কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তে হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বুধবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে। কেন কীভাবে ঘটনা ঘটেছে এসব জানার জন্য অনুসন্ধান চলছে। হত্যাকান্ডের ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, লাশের সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর শ্রীপুর থানার এসআই এখলাস ফরাজী বলেন, চার লাশের প্রতিটিই ছিল বিবস্ত্র। প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করে সবাইকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তারেক হাসান বাচ্চু জানান, ২০ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ায় থাকার সময় প্রবাসী কাজল মিয়া সে দেশের নাগরিক ফাতেমাকে বিয়ে করে দেশে নিয়ে আসেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার গোলবাড়ী। শ্রীপুরের আবদার গ্রামের আবদুল আউয়াল কলেজের পশ্চিম পাশে জমি কিনে তারা দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করেন। বাচ্চু আরও জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে একই মেঝেতে সবার রক্তমাখা গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে প্রবাসী কাজলের ভাই আরিফ ও স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। গভীর রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তার ধারণা। তবে ওই বাসা থেকে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ কেউ পায়নি। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য আরও জানান, বাড়ির গেট আটকানো ছিল। তবে ঘরের দরজা ভেজানো ছিল। প্রবাসী কাজল মিয়ার ভাই আরিফ জানান, তার ভাই বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় তার ভাবির সঙ্গে দেখা হয়। সে সময় ভাবি পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকালে বাজার করে দিতে বলেন। সেমতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে যান এবং ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে চলে যান। দুপুর ২টার দিকে আবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের বাড়ির টিনের চালের ওপর দিয়ে বাড়িতে ঢোকেন। পরে ওই বাড়ির দোতলার একটি কক্ষের একই মেঝেতে সবার রক্তমাখা গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের ও পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে লাশ চারটি উদ্ধার করে।

জাতীয়