Friday || June 25, 2021 Online Tech News Portal
img

মানুষের পাশে পুলিশ

Posted on : 2020-04-19 10:29:25

News Source : ইনকিলাব, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৫১ পিএম

মানুষের পাশে পুলিশ

দীর্ঘ ২৫ দিন পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় গ্রামে ফিরলেও বাড়িতে উঠতে দেয়নি চাচাতো ভাইয়েরা। ভাড়া বাসায় ফেলে রেখে চলে যান তার স্ত্রী ও সন্তান। অবশেষে ৬৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী আশরাফুজ্জামানের দায়ভার গ্রহণ করেন ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাতের ঘটনা এটি। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেয়া হয় এক নারী চিকিৎসককে। ওই নারীকে বের করে দেয়ার সংবাদ প্রচার হওয়ার একঘণ্টার মধ্যেই তাকে বাসায় তুলে দেন সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা দৈনিক ইনকিলাবকে বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় দেশের পুলিশের কাজের তালিকা অনেক। যেমন সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা, চিকিৎসা না পেয়ে থানায় হাজির হওয়া মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ঘরে থাকা মানুষের কাছে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে দেয়া, কোয়ারেন্টাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, লকডাউন এলাকায় মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছাড়া করোনায় মৃতদের দাফনের ব্যবস্থাতেও পুলিশকে থাকতে হচ্ছে। ঢাকাসহ সারাদেশের লাখের বেশি পুলিশ সদস্য দিনরাত এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা এ মহামারিকে ভ‚লে অসহায় মানুষদের সত্যিকার আপনজন হয়ে উঠেছেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। নিজেদের জীবন বাজি রেখে এভাবেই দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তর এবং ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশে ইতিমধ্যে ৫৮ পুলিশ সদস্যের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৩৩ জন এবং এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৪৩ জন। আইসোলেশনে রয়েছেন ৯ জন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, কতটা মানুষের পাশে থাকা যায়। এখন সেটাই পুলিশের জন্য খুব জরুরি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রতিদিন ছয় হাজার মানুষকে এক বেলা করে খাবার দিচ্ছে। পুলিশের এসব কাজকে ভালো চোখে দেখছে মানুষ। সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ মুহুর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে আমরা নিজের দায়িত্ব বলেই মনে করছি বলে পুলিশ কমিশনার মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের যেসব পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, পুলিশ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে করোনার জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। যারা মাঠে দিন-রাত মানব সেবা করছেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা সর্তক থাকার চেষ্টা করছি।

করোনায় ৫৮জন আক্রান্ত কোয়ারেন্টাইনে ৬৩৩জন পুলিশের
পুলিশ সদর দপ্তর এবং ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশে ইতিমধ্যে ৫৮ পুলিশ সদস্যের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭জন ডিএমপিতে, ১১জন গোপালগঞ্জে, ৬জন নারায়ণগঞ্জে, ৫জন গাজীপুর মহানগর পুলিশে, ২জন কিশোরগঞ্জে এবং ১জন করে ময়মনসিংহ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, পুলিশ টিঅ্যান্ডআইএম, এপিবিএন ময়মনসিংহ, নৌ পুলিশ ইউনিট ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্য। সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন এমন ৬৩৩ পুলিশ সদস্যকে ‘হোম’ ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, লকডাউন কার্যকর, রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়াসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের গণমাধ্যম সমন্বয়ক এআইজি সোহেল রানা বলেন, পুলিশের যেসব সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পুলিশের স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্র গুলোতে আইইডিসিআর এর নিয়ম অনুসরণ করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে।

নারীর ঘরে চাল-ডাল নিয়ে হাজির ওসি
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ছোট তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটানো সেই নারীর ঘরে চাল, ডাল, আলু ও তেল নিয়ে হাজির হন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাযহারুল ইসলাম। গত ৩১মার্চ রাতে ওই নারী প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে বুধবার ১ এপ্রিল দুপুরে ওসি নিজে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন সুতিরখাল পাড় এলাকার ওই নারীর বাসায় যান।

ওয়ারী থানায় লকডাউন হওয়া একটি বাড়ির লোকজনের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন এসআই মোঃ হারুন-অর-রশিদ। আক্রান্ত পরিবারের বাসায় ফোন দিয়ে জানিয়েছেন, কোন দরকারে তাকে ফোন দেওয়ার জন্য। বাসার সবার জন্য খাবার পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন যাতে তারা বাসা থেকে বের না হন। আশুলিয়া থানার অধীনে থাকা ১৫০ টি দরিদ্র পরিবারকে প্রতিদিন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২৪ ঘন্টা পুলিশ এলাকায় কারো অসুবিধা হচ্ছে কিনা তার খোঁজ নিচ্ছে। আশুলিয়া থানার ওসি জাবেদ মাসুদ ইনকিলাবকে বলেন, দুটি কারণে আশুলিয়া এলাকায় আমরা এই সহযোগিতা চালু রেখেছি। একটি মানবিক। অন্যটি ক্ষুধার্ত সাধারণ মানুষ যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে।

করোনা ক্রান্তিকালে ‘সম্মুখযোদ্ধা’ পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তিনি ইনকিলাবকে বলেন, অনেক পুলিশ সদস্যই মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। ব্যারাক ও জেলাগুলোর পুলিশ লাইনসে বসবাস করা প্রত্যেকটি সদস্যের সুরক্ষায় যা যা করণীয় ও গৃহীত উদ্যোগ দ্রæত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিট প্রধানকে দায়িত্ব নিতে হবে। কোনো সদস্য যেন আক্রান্ত না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ আক্রান্ত হয়ে গেলে তাকে আইসোলেটেড করা, সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পুলিশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে তা খুব খারাপ ম্যাসেজ যাবে সর্বমহলে।

জাতীয়